সোমবার, ২০২৬ অক্টোবর ০৫ | ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Crime24TV Logo
আর্কাইভ বাংলা কনভার্টার
Crime24TV Logo
Logo
Logo

ক্রাইম ২৪ প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং নগরজীবনের অজানা তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরে।

সম্পাদক: তাওহিদ হোসেন মিঠু

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:

মসজিদ মার্কেট (২য় তলা),
ছোটরা, কুমিল্লা-৩৫০০।

02334400099, 02334404652
০১৭২৬০১২০০৭ 
০১৭১১৩৮৮১৫৫

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন
🔴 সর্বশেষ:
নিজের কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা, বছরখানেক আগে করিয়েছেন চল্লিশাও আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নেতা নন, নির্যাতিত মানুষের নেতা: জামায়াত আমির ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বার থেকে ২৩০ বোতল অবৈধ মদ জব্দ ‘চোরাই গরু’ দিয়ে বৌভাতের আয়োজন, গ্রেপ্তার বরের বাবা বন্ধুকে আটকে রেখে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করলা খেতে ছাগল প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেপ্তার ৭ জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি প্রকাশ আনসারের পৃথক তিনটি আইন রূপান্তর করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না, এটি আবারও প্রমাণিত: রাশেদ খাঁন ঘরছাড়া ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েই বুকে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী রাড্ডা সেন্টারে হামলা: এমপি পদ থেকে বিএনপির মিষ্টির পদত্যাগ আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো পথে এসে সার্জেন্টের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ৭ দিনের কারাদণ্ড লেডি বাইকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুসলিম বন্ধুর জানাজায় দূরে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদলেন বৌদ্ধ বন্ধু গরিব ছেলে পছন্দ করতাম, পরে বুঝেছি এরা আরও বেশি দুষ্টু: প্রভা বিয়ের ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বাবা হলেন জুবিন
প্রতিবেদক - | রবিবার, ২০২৬ অক্টোবর ০৪, ০৫:২১ অপরাহ্ন
নিজের কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা, বছরখানেক আগে করিয়েছেন চল্লিশাও
নিজের কবর খুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা, বছরখানেক আগে করিয়েছেন চল্লিশাও

ইট-পাথরে মোড়ানো পাকা একটি কবর। চারপাশে পরিপাটি পরিবেশ। কবরটির রয়েছে পিলার, ছাদ ও ছোট ছোট মিনার। প্রথম দেখায় সাধারণ কোনো স্থাপনা মনে হলেও এটি আসলে একটি কবর। আর সেই কবরের পাশে বসেই জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা করছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম।

গত ৫ বছর ধরে নিজের হাতে তৈরি করা এই কবরের যত্ন নিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন নিয়ম করে কবরের আশপাশ পরিষ্কার করেন। কোথাও ধুলা জমলে নিজ হাতেই তা পরিষ্কার করেন। শুধু নিজের জন্যই নয়, মৃত্যুর পর স্ত্রীকে পাশে রাখার ইচ্ছায় পাশাপাশি আরও একটি কবরও খুঁড়ে রেখেছেন তিনি।

আব্দুর রহিম বলেন, মৃত্যুর পর সন্তানরা আমাকে ও আমার স্ত্রীকে দাফন করবে কি না—এ নিয়ে আমার মনে শঙ্কা রয়েছে। তাই জীবিত থাকতেই নিজের ও স্ত্রীর কবর প্রস্তুত করে রেখেছি। আমার শেষ ইচ্ছা, মৃত্যুর পর যেন আমাকে ও আমার স্ত্রীকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছেন আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়েও আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমার মৃত্যুর পর যেন পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে জন্য জীবিত থাকতেই চল্লিশা ও দোয়া মাহফিল শেষ করেছি।

আব্দুর রহিমের ব্যতিক্রমী এই কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার কবর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। কেউ বিষয়টিকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, জীবনের অনিবার্য পরিণতি নিয়ে গভীর উপলব্ধি থেকেই এমন প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় রশিদ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুর রহিম নিজের কবরের যত্ন নিয়ে আসছেন। তার এই ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ কুশাডাঙ্গা গ্রামে আসছেন।

কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, আমি আমার জীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের গ্রামের আব্দুর রহিম নিজের জন্য কবর খুঁড়ে রেখেছেন এবং কবরটি পাকা করে রেখেছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তার এই কবর দেখতে প্রায় প্রতিদিনই আব্দুর রহিমের বাড়িতে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ।

স্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তি তার ও তার স্ত্রীর জন্য পাকা করে কবর নির্মাণ করে রেখেছেন। এমন খবর শোনার পর বেশ কিছুদিন আগে সেখানে গিয়েছিলাম। তার মনে সন্দেহ, মৃত্যুর পর তার ছেলেমেয়েরা যদি তাকে দাফন না করে এবং তার স্ত্রীকে তার পাশে দাফন না করে অন্য কোনো জায়গায় দাফন করে। এই কারণেই মূলত তিনি তার ও তার স্ত্রীর জন্য পাকা করে কবর নির্মাণ করে রেখেছেন। প্রায় বছরখানেক আগে চল্লিশাও করে রেখেছেন তিনি।

এ বিষয়ে মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেন, কবর পাকা করা, কবর ঝাড়ু-মোছা করা শরিয়তবিরোধী কাজ এবং সম্পূর্ণ বিদআত। রাসুল (সা.)-এর যুগে বা সাহাবিদের যুগে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড ঘটেনি। রাসুল (সা.) বলেছেন, কবরের ওপর তোমরা যা কিছু করবে, কবরবাসীর জন্য তা বোঝা হয়ে যাবে। কবরস্থানের চারপাশ পাকা করা যায়, কিন্তু একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কবর পাকা করা যায় না। সুতরাং আব্দুর রহিম বেঁচে থাকাকালীন যে কাজটি করেছেন, এটি সম্পূর্ণরূপে শরিয়তবিরোধী ও হারাম কাজ।

পৃথিবীর মায়া ছেড়ে একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে। তবে জীবিত থাকতেই নিজের কবর তৈরি করে রাখা, প্রতিদিন সেই কবরের যত্ন নেওয়া এবং মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাও আগেভাগে শেষ করে রাখার ঘটনা এলাকায় তৈরি করেছে নানা কৌতূহল। আব্দুর রহিমের এই প্রস্তুতি নিছক ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ, নাকি জীবনের শেষ সত্যকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করার এক ভিন্ন মানসিকতা—তা নিয়েই এখন আলোচনা।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।