মঙ্গলবার, ২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ | ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Crime24TV Logo
আর্কাইভ বাংলা কনভার্টার
Crime24TV Logo
Logo
Logo

ক্রাইম ২৪ প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং নগরজীবনের অজানা তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরে।

সম্পাদক: তাওহিদ হোসেন মিঠু

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:

মসজিদ মার্কেট (২য় তলা),
ছোটরা, কুমিল্লা-৩৫০০।

02334400099, 02334404652
০১৭২৬০১২০০৭ 
০১৭১১৩৮৮১৫৫

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন
🔴 সর্বশেষ:
অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতেই জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন আসিফ: রাশেদ খান বাজার ছেয়ে গেছে ভারতের স্বাদহীন ইলিশ, পদ্মার ইলিশ বলে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন ‘মসজিদ নেই’ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ লং মার্চের নামের লং ড্রাইভ করছে জামায়াত: রাশেদ খান শত শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়: রাশেদ খাঁন সরকারও আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম পাড়ার মানুষের গোপন কথা বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক হলেন নারী ভাইভায় নম্বর বাড়ানো নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন নাহিদ ইসলাম কাতারপ্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান চার মাসে কুরআনের হাফেজ ৮ বছরের সাজিদ ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য আটক ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বাড়ির সামনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা তিন ছাত্রকে বলাৎকার, মাদরাসা শিক্ষকের কক্ষে মিলল উত্তেজক ওষুধ ভারতে বিষাক্ত মদপানে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু
প্রতিবেদক - | সোমবার, ২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪, ০৪:০১ অপরাহ্ন
এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন ‘মসজিদ নেই’
এশার নামাজ পড়ে যান মুসল্লিরা, ফজরে গিয়ে দেখেন ‘মসজিদ নেই’

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ভয়াবহ ভাঙনে একটি মসজিদ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেছিলেন মুসল্লিরা। কিন্তু ফজরের নামাজ পড়তে এসে তারা দেখেন, মসজিদটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

পদ্মার ভাঙনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি পূর্বরাখী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে থেকেই বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় একটি অংশও ধসে গেছে। এরপরও ভাঙন ঠেকাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি পদ্মার গর্ভে চলে যায়।

মাদরাসার ছাত্র সোহেল বলেন, ‘আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদুর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে নদী গভীর হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে।

মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, ‘আমাদের এখানে বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।সদর উপজেলার পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, ‘আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো, সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় জামাল বলেন, নদীটি আগে তুলনামূলক ছোট ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে আশপাশের বহু বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এতে মানুষের জীবন বসতির নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এবার মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে।

এদিকে রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ- আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।

মুন্সীগঞ্জ- আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে রয়েছে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবো তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।